মায়ের কষ্ট দূর করতে কুয়ো কাটলেন আদিবাসী কন্যা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ মা অসুস্থ শরীরে জল আনতে যান তিনশো মিটার দূরে। ওই কষ্ট দেখে মেয়ে মায়ের জন্য নিজের হাতেই তৈরি করল একটি পাতকুয়ো। সেই কুয়োতে জাল উঠেছে। স্বপ্ন পূরণ হল মেয়ে ববিতার। দীর্ঘ ২-বছর চেষ্টা আর পরিশ্রমে অসাধ্য সাধন করেছেন আদিবাসী কন্যা ববিতা সোরেন।রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ববিতা এখন গোলসিতে বিএড পাঠরত । বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে কুয়ো খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। রানিগঞ্জের বক্তারনগর রেলপাড়ে তাঁর বাড়ি।ছুটিতে বাড়ি আসার পর কিছুটা করে মাটি কেটে রাখতেন। লকডাউনে তিনি টানা গর্ত খুঁড়ে গিয়েছিলেন। এরপর মাটি ও পাথরের স্তর ভেঙে বেরিয়ে এল জল। মায়ের জলের জন্য ববিতার লড়াই শেষ হল।
সাফল্যের পর ববিতা জানিয়েছেন , পড়াশোনার জন্য বর্ধমানে থাকতাম, তাই ছুটির দিন পেলেই বাড়ি ফিরে কুয়ো কাটার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। কিন্তু এই লকডাউনে বাড়িতে থাকার সুবাদে কুয়োর প্রায় ১৮ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে ফেলেছি। বাঁশের খাঁচা করে দড়ি বেঁধে উঠানামা করেছি। কুয়োতে জলের দেখাও মিলেছে। কিছু দিনের মধ্যে কুয়োর জল ব্যবহার করতে পারবো’। ছোটবেলা থেকে মা-কে জলের জন্য কষ্ট করতে দেখেছেন।বাড়ি থেকে বহু দূরে দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে, তবে মিলত এক কলসি জল। ছোট থেকে মায়ের সেই কষ্ট বিচলিত করতো আদিবাসী কন্যা ববিতাকে।প্রসঙ্গত, বক্তারনগরে অধিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ি ববিতাদের।
পড়াশোনা করে জেনে নেন, ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ জল পাওয়া যাবে ১৮ থেকে ১৯ ফুট নিচে। মেয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রথম কুয়ো খোঁড়ার কাজে হাত দিয়ে ছিলেন বাবা হোপনা সোরেন। আজ মেয়ের এমন কাজে খুশি ঝরে পড়ছে তাঁর মুখে। মা নিনা সোরেন বলেন, ‘আমার কষ্ট দেখে মেয়ে যে এতো বড় কাজ করবে কোনও দিনও ভাবতে পারিনি। আর আমাকে অত দূরে গিয়ে লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে না’।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাপতি সুভদ্রা বাউরি এই ঘটনার পর জানিয়েছেন , ‘অত্যন্ত গর্ব হচ্ছে। আমার জেলার একজন আদিবাসী শিক্ষিতা মেয়ে এভাবে মায়ের দুঃখ দেখে কুয়ো কেটে ফেলল, তাঁর জন্য কোনও প্রসংশাই যথেষ্ট নয়। অনেক শুভেচ্ছা ও প্রসংশা রইল’।

